১৯৭১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।
বাংলাদেশের বালিয়াডাঙ্গায় একটি কর্দমাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ৬২ জন মুক্তিবাহিনীর একটি ছোট দল, পুরানো অস্ত্রে সজ্জিত এবং অটল দৃঢ়তায় ১,২০০ পাকিস্তানি সৈন্যের অপ্রতিরোধ্য বাহিনীর বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়। এটি কোন সাধারণ যুদ্ধ ছিল না; প্রকৃতপক্ষে তা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি টার্নিং পয়েন্ট।
ক্যাপ্টেন মাহবুবের নেতৃত্বে সেই মুক্তিবাহিনী ছিল টগবগে যুবকের দল যারা কেবলই পাকিস্তানি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু করেছিল। তাদের সীমিত রসদ এবং বিশাল সংখ্যাগত অসুবিধার কথা চিন্তা করে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে। তবে ভেঙ্গে না পড়ে বরং অন্ধকারের আড়ালে পাকিস্তানি শিবিরে অনুপ্রবেশ করে এবং অতর্কিত আক্রমণ চালায়।
চারদিন ধরে যুদ্ধ চলে। সংখ্যায় অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও মুক্তিবাহিনী সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধ করে এবং পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে সমর্থ হয়। তারা মূলত গেরিলা কৌশল ব্যবহার করেছিলেন এবং শত্রুর টহলদারদের উপর অতর্কিত হামলা করলেন। তাছাড়াও চেনাজানা ভূখন্ডও তাদের বেশ কাজে দিয়েছিল।
সমস্ত প্রতিকূলতার বিপরীতে, মুক্তিবাহিনী নিজেদের ভূমি নিজেদের কাছেই রাখেন এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে তাদের ভূখণ্ডে অগ্রসর হতে বাধা প্রদান করেন। যদিও, যুদ্ধটির জন্য দলটিকে ভারী মূল্য দিতে হয়েছিল। সাত্তার, নায়েক শফিকুর রহমান, মনোয়ার আলী, জাকির হোসেন, ইমদাদুল হক, হাবিলদার শফি, সিপাহী আনসার, হামাজ উদ্দিন, আয়েদ, আকবর আলী সরদার, আহাদসহ ১৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সে যুদ্ধে স্বদেশের জন্য আত্মত্যাগ করেন।
এই বিজয়ের সাক্ষী হতে পারলে কেমন হত আপনার দেয়া শিরোনাম?
১৩ অক্টোবর, ২০০৬
বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ এবং সামাজিক উদ্যোক্তা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস, তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের সুবাদে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
তাঁর এই অর্জন শুধু বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বিজয়ই নয়, বরং ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দরিদ্রদের ক্ষমতায়নে ড. ইউনূসের যুগান্তকারী পরিকল্পনা সারা বিশ্বে খুলেই দেয় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
ডঃ ইউনূস দারিদ্র্যের বিধ্বংসী প্রভাব প্রত্যক্ষ করেছেন যা তাকে ক্ষুদ্রঋণ বিকাশে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর এই বৈপ্লবিক ধারণাই নারীদের ব্যবসায় শুরু করতে এবং দারিদ্র্যতা থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম হয়েছে।
১৯৮৩ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন, যা সবচেয়ে দরিদ্র, বিশেষ করে মহিলাদের মাইক্রোলোন প্রদানের জন্য শুরু হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য লক্ষাধিক মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে, তাদের ক্ষমতায়ন করেছে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।
এই পুরস্কারটি ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। ড. ইউনূসের এ অর্জন ক্ষুদ্রঋণ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়, যার ফলে পরবর্তিতে ১০০ টিরও বেশি দেশে এর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।
এই অর্জনটি তখন বহু বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে।
ড. ইউনূসের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও বেশি কিছু ছিল; এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি বিজয় এবং জাতির অগ্রগতি ও সম্ভাবনার প্রমাণ।
বাংলাদেশের এ বিজয়ে কেমন হত আপনার দেয়া শিরোনাম?